
প্রতিবেদন: তাবাসসুম মুনির
বাংলার ঐতিহ্যবাহী অতিথিয়তার অন্যতম প্রতীক হলো, পান-সুপরি আর সেই সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে দক্ষিণ জেলা ঝালকাঠিতে
বাংলাদেশের একটি জেলা, যেখানে ৮৯টি সাপ্তাহিক হাটে একদিনে বেচা-কেনা হয় কোটি টাকার সুপারি। এটি দেশের সুপারি ব্যবসায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। সুপারি উৎপাদন ও বাণিজ্যে বিপুল অবদান রেখে চলেছে এই সুপারি ব্যবসায় চলমান প্রবৃদ্ধি এবং একক দিনেই কোটি টাকার লেনদেন।
ঝালকাঠির প্রত্যেক গ্রামে সুপারি চাষ হয়। প্রতি বছরের তুলনায় এ বছর সুপারির ফলন ভালো হয়েছে। তবে দামে কিছুটা কম হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন চাষিরা। তবুও জেলার প্রতিটি হাটেই সুপারি বেচাকেনার জন্য ভিন্ন স্থান থাকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত থাকে হাটগুলো।
জানা যায়, জেলার ৪টি উপজেলার ৩২টি ইউনিয়নে প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকার সুপারি বেচাকেনা হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সুপারির ভালো ফলন হয়েছে। প্রতি কুড়ি বা ২১০টি সুপারি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা।
ঝালকাঠির ছত্রকান্দা, সিঅ্যান্ডবি বাজার, রাজাপুরের বাগড়ি, লেবুবুনিয়া, বাদুরতলা, নাপিতেরহাট, নলছিটির ভৈরবপাশা, ষাটপাকিয়া, চাকলার বাজার, মানপাশা, মোল্লারহাট, কাঠালিয়ার কৈখালী, সাতানি বাজার, আমুয়াসহ জেলার বিভিন্ন হাটে প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকার সুপারি বেচাকেনা হয়। এখানকার সুপারি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রংপুর,দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাইকাররা সরবরাহ করেন।এমনকি দেশের বাহিরে রপ্তানি হচ্ছে ভারত, চিন ও থাইল্যান্ডে।
চাষিরা বলছেন, অন্য ফসলের তুলনায় সুপারি চাষে ঝুঁকি ও উৎপাদন খরচ কম। রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় সুপারি চাষে আগ্রহও বাড়ছে দিন দিন। ক্রেতারা জানান, এ বছর সুপারির উৎপাদন বেশি হওয়ায় কম দামে সুপারি কিনতে পারছি। পাশাপাশি ভালো লাভের আশা করছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহিদা শারমিন আফরোজ জানান, সুপারি চাষে শ্রম কম ঝুঁকি কম তাই ক্রমেই মানুষ আগ্রহী হচ্ছে। দাম স্থিতি থাকলে দক্ষিনের এই জেলা হয়ে উঠতে পারে দেশের সুপারি রাজধানী।