
নিজস্ব প্রতিবেদক: মোঃ মনির হোসেন
মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বরিশাল নগরীর ৩০ গোডাউন সংলগ্ন বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভে অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে পবিত্র এই স্থানের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভে জুতা পায়ে বেদিতে ওঠা এবং শ্রদ্ধাঞ্জলি ও শ্রদ্ধাঞ্জলির ফুল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো ধরনের কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক দর্শনার্থী জুতা পায়েই মূল বেদিতেজ উঠে পড়ছেন।শহীদের মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, পূর্ববর্তী বছরগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে এখানে পুলিশ বা স্বেচ্ছাসেবকদের উপস্থিতি থাকত, যারা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতেন। কিন্তু এবার এমন কোনো তদারকি চোখে পড়েনি।
এছাড়া শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাখা পুষ্পস্তবকগুলোও সুরক্ষিত ছিল না। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসচেতন ব্যক্তি সেই ফুলগুলো ছিঁড়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে পুরো শ্রদ্ধাঞ্জলিই সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এ বিষয়ে উপস্থিত কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, “যেখানে শহীদদের স্মৃতি জড়িয়ে আছে, সেখানে জুতা পায়ে ওঠা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আগে এখানে নিয়ম-কানুন মানতে বাধ্য করা হতো, কিন্তু এখন কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।”
অন্যদিকে, জুতা পায়ে বেদিতে ওঠা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা আমাদের বরিশাল পত্রিকা সাংবাদিকদের জানান, এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনামূলক ব্যানার বা সতর্কবার্তা না থাকায় অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তাদের ভাষ্য, “এখানে কী করা যাবে আর কী করা যাবে না—এমন কোনো নির্দেশনা নেই, তাই আমরা বুঝতে পারিনি।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, একটি জাতির ইতিহাস ও আত্মত্যাগের প্রতীক এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্পষ্ট আচরণবিধি নিশ্চিত করা জরুরি। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। তারা আরো বলেন যারা এই স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়েছেন তারা সকলেই প্রশাসনিক কর্মকর্তা তারা হয়তো বা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ার মাধ্যমেই তাদের দায়িত্ব কর্তব্য শেষ হয়ে গিয়েছে মনে করেছেন। তাই হয়তো বা কোন প্রশাসনিক কর্মকর্তার নজরদারি বা তদারকি নেই। আসলে আমরা প্রশাসনের প্রশাসনের কাছে এমনটা আশাবাদী নই।