বর্তমান সময়ে চুলের যত্নে আমরা হাজার হাজার টাকার কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার ব্যবহার করছি, তবুও চুল পড়া বা অকালে পেকে যাওয়ার সমস্যা থামছে না । অথচ আমাদের নানী-দাদীদের আমলে তাদের ছিল ঘন, কালো এবং মজবুত চুল। তাদের এই সুন্দর চুলের আসল রহস্য ছিল প্রকৃতিক তৈরি কিছু সাধারণ টোটকা, কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর ঘরোয়া প্রতিকার।
তারা মূলত কী কী ব্যবহার করতেন,যে তাদের চুল বুড়ো হলে ও ঘন থাকতো
ভেষজ তেলের জাদুকরী গুণ
নানী-দাদীরা বাজার থেকে কেনা সুগন্ধি তেলের বদলে খাঁটি নারকেল বা সরিষার তেলের ব্যবহার করতেন। এই তেলের সাথে আমলকী, মেথি, জবা ফুল এবং কারি পাতা মিশিয়ে তা জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হতো বিশেষ ভেষজ তেল। নিয়মিত এই তেল মাথায় ম্যাসাজ করলে চুলের গোড়া শক্ত হয় এবং অকালে চুল পাকা রোধ হয়।
পেঁয়াজের রস ও জবা ফুলের ব্যবহার
চুলের বৃদ্ধিতে পেঁয়াজের রসের ব্যবহার বেশ পুরনো। পেঁয়াজে থাকা সালফার নতুন চুল গজাতে অবিশ্বাস্য কাজ করে। অন্যদিকে, জবা ফুল ও পাতা বেটে চুলে মাখলে চুল সিল্কি হয় এবং প্রাকৃতিক কালার বজায় থাকে।
মেথি ও টক দইয়ের পুষ্টি
চুল ঘন করতে মেথি সারারাত ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে বেটে নেওয়া হতো। এর সাথে টক দই মিশিয়ে চুলে মাখলে চুল হয় ঝলমলে ও মজবুত। এটি প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে এবং মাথার ত্বকের পুষ্টি জোগায়।
প্রাকৃতিক ক্লিনজার:
আজকের দিনের শ্যাম্পুর বদলে তখন চুল পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত করতো আমলকী বা শিকাকাই। এগুলো চুলের স্বাভাবিক তেল (Natural Oil) নষ্ট না করেই মাথা পরিষ্কার রাখে। এছাড়া খুশকি ও চুলকানি দূর করতে নিম পাতার পেস্ট ছিল তাদের প্রধান হাতিয়ার।
সুস্থ চুলের জীবনধারা
শুধুমাত্র উপাদান নয়, তাদের জীবনধারাও ছিল আলাদা। তারা অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার এবং চুলের ক্ষতি করে এমন কোনো ইলেকট্রনিক ড্রায়ার বা হিট স্টাইলিং পরিহার করতেন। নিয়মিত তেল ম্যাসাজ এবং প্রাকৃতিক উপাদানই ছিল তাদের দীর্ঘ ও ঘন চুলের মূল চাবিকাঠি।