
প্রতিবেদন: মোঃ মনির হোসেন
সারা দেশের মতো বরিশালেও দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে গ্যাস সংকট। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সিএনজি অটোরিকশা ও গ্যাসচালিত যানবাহনের চালকদের জীবনে। বরিশাল নগরীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকেরা। ফলে গ্যাসের অভাবে গাড়ি রাস্তায় নামাতে না পেরে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ, রুপাতলী, সাগরদি, কাশিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত সিএনজি পাম্পগুলোতে প্রতিদিন ভোররাত থেকেই চালকদের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। অনেক চালক রাত ৩টা বা ৪টা থেকে লাইনে দাঁড়ালেও সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে যাচ্ছে—তবুও মিলছে না গ্যাস। কোথাও কোথাও স্বল্পচাপে অল্প পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হলেও তা দিয়ে দুই-এক ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
সিএনজি চালকদের অধিকাংশই দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলে সংসার, সন্তানের লেখাপড়া, বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ। গ্যাস সংকটের কারণে একের পর এক দিন গাড়ি চালাতে না পারায় তাদের জীবনে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা।
নগরীর সিএনজি চালক সবুজ আকন আবেগভরে বলেন,
“সকাল থেকে পাম্পে দাঁড়িয়ে আছি। প্রায় দশ থেকে পনেরো দিনের মত। গ্যাস না পেলে গাড়ি বের করতে পারি না। গাড়ি না চালালে ঘরে চুলা জ্বলে না। বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকাতে পারি না—এই কষ্ট কাউকে বোঝাতে পারবো না।”
আরেক চালক জানান, কয়েকদিন ধরে ঠিকমতো আয় না হওয়ায় বাজার-সদাই করা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকেই ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন।
এই সংকটের কারণে যাত্রী সাধারণও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পর্যাপ্ত সিএনজি না থাকায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে অথবা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প যানবাহনে চলাচল করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে বরিশাল নগরীর ডোস পাম্পের ক্যাশিয়ার খোরশেদ আলম বলেন,
“আমরাও অসহায়। আমাদের কাছে গ্যাসের সরবরাহই কম আসছে। অনেক সময় চাপ একেবারেই থাকে না। চালকেরা ক্ষুব্ধ হন, কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। উপর থেকে যতটুকু গ্যাস দেওয়া হয়, ততটুকুই আমরা দিতে পারি।”
তিনি আরও জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় প্রতিদিন শত শত চালক গ্যাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন, যা তাদের জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
চালক ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই খাতের সঙ্গে জড়িত হাজারো পরিবার আরও গভীর সংকটে পড়বে। তারা অবিলম্বে গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।