
প্রতিবেদন: মনির হোসেন
বরিশাল নগরীর রুপাতলী হাউজিং স্টেট মসজিদের সামনে প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে বসছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ভাসমান বাজার। গ্রামাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী হাট-বাজারের আদলে গড়ে ওঠা এই বাজারে ভ্যানগাড়িতে করেই পণ্য বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। ফলে কোনো স্থায়ী দোকান ছাড়াই স্বল্প পরিসরে দ্রুত বাজার সেরে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন মুসল্লিরা।
জুমার নামাজ শেষ হতেই মসজিদের সামনে জমে ওঠে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়।টুপি, পাঞ্জাবি, কাপড়, কাঁচা সবজি, হাস-মুরগী,মাছ, ডিম, ফলমূল, মুদি সামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পণ্যই এখানে পাওয়া যায়। অন্য এলাকার বাজারের তুলনায় দামও তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি।
মুসল্লি সামচুল আলম (৫২) বলেন,
“আমি একজন সরকারি চাকরিজীবী। সপ্তাহের অন্য দিন অফিসের কারণে বাজার করার সময় পাই না। শুক্রবার নামাজ শেষে এখান থেকেই প্রয়োজনীয় সবজি ও মাছ কিনে নিয়ে যাই। এতে সময় ও টাকা—দুটোই বাঁচে।”
আরেক মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. নয়ন জানান,
“এই বাজারটা খুব সুবিধাজনক। নামাজ পড়ে বের হয়েই বাজার করা যায়। ছোটখাটো প্রয়োজনে আলাদা করে হাটে যেতে হয় না। দামও কম, তাই সবার জন্যই ভালো।”
একই মত প্রকাশ করেন মুসল্লি ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আলহাজ্ব মো. সুলতান আহমেদ তিনি বলেন,
“গ্রামের হাটের মতো পরিবেশ এখানে। পরিচিত লোকজনের সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়। ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রেখেই বাজার হচ্ছে—এটাই সবচেয়ে ভালো দিক।”
বাজারে আসা এক ভ্যানচালিত বিক্রেতা বলেন,
“শুক্রবার এখানে ভালো বেচাকেনা হয়। মুসল্লিরা নামাজ শেষে সরাসরি বাজার করেন। আমাদেরও লাভ হয়, আবার ক্রেতারাও কম দামে পণ্য পান।”
স্থানীয়দের মতে, এই ভাসমান বাজার শুধু মুসল্লিদের নয়, আশপাশের বাসিন্দাদের জন্যও সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে পরিচালনা করা গেলে এই বাজারটি ভবিষ্যতে একটি নিয়মিত ও সুসংগঠিত সাপ্তাহিক বাজারে রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।