
ডেক্স রিপোর্ট
র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই খুন, ধর্ষন, ডাকাতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, মজুতদারি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারী ও আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র্যাব ইতিমধ্যেই বিশেষ সফলতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
তারই ধারাবাহিকতায়, র্যাব-৮, সদর কোম্পানী, বরিশাল, র্যাব-১, সিপিএসসি, গাজীপুর, র্যাব-৩, সিপিসি-২, মগবাজার এবং র্যাব-১৪, সদর কোম্পানী, ময়মনসিংহ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ০৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাত্রীবেলা নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানাধীন বড় বাজার এলাকা হতে ভারতে পলায়নকালে আগৈলঝাড়া থানার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার মূলহোতা সেন্টু শিকদার (৪১), পিতা- মৃত আনিস শিকদার, সাং- পশ্চিম গোয়াইল, থানা- আগৈলঝাড়া, জেলা- বরিশাল’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
মামলার এজাহারের বিবরণে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত এজাহারনামীয় প্রধান অভিযুক্ত সেন্টু শিকদার (৪১) সহ অন্যান্য অভিযুক্তরা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে পরস্পর যোগসাজশে মামলার ভিকটিম মৃত জহিরুল শিকদার (৪৬)’কে গত ইং ০১ জুলাই ২০২৬ তারিখ মারধর করে। পরবর্তীতে, উক্ত বিষয় মীমাংসা হওয়ার পরও একই তারিখ রাত অনুমান ২১:৪৫ ঘটিকায় সঙ্গীয় অভিযুক্ত জুয়েল সিকদার ভিকটিমকে ডেকে নিয়ে উক্ত গ্রামের পশ্চিম গোয়াইল মসজিদের দক্ষিণ পাশের পাকা রাস্তার উপর নিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সেন্টু সিকদার সহ অন্যান্য অভিযুক্তরা মিলে বেধড়ক মারধরের একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত সেন্টু শিকদার লোহার রড দিয়া ভিকটিমের মাথায় আঘাত করলে ভিকটিম গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। ভিকটিমের ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। অতঃপর, ভিকটিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়া গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার ভিকটিমকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে, ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে বরিশাল আগৈলঝাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন যা।
উক্ত হত্যাকান্ডের পর থেকেই র্যাব-৮, সদর কোম্পানী, বরিশাল ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। অপরাধী অত্যন্ত চতুরতার সাথে এলাকা ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যায় এবং তার অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু র্যাব-৮, বরিশাল সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ময়মনসিংহ জেলার কোতয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়।