
হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের মতোই কঠোর নিয়ম—ভেতরে ঢুকতে হলে হাত-পা ধুয়ে জুতা বদলানো বাধ্যতামূলক। কোনো উৎকট গন্ধ নেই, অথচ এটি ব্রয়লার মুরগির খামার। বরিশালের চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্ণকাঠি গ্রামে এখন এভাবেই সম্পূর্ণ বিষমুক্ত ও অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া বড় হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি।
আঞ্চলিক প্রাণিরোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারের কারিগরি সহায়তায় ২০২৩ সালে মাত্র ১০ জন খামারিকে নিয়ে শুরু হয়েছিল ‘মডেল পোলট্রি ভিলেজ’ নামের এই বিশেষ উদ্যোগ। বর্তমানে খামারির সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি আশেপাশের এলাকায়ও এই পদ্ধতি জনপ্রিয় হচ্ছে।
প্রচলিত খামারে যেখানে রোগ সারাতে অ্যান্টিবায়োটিকের ওপর নির্ভর করা হয়, সেখানে কর্ণকাঠির খামারিরা বেছে নিয়েছেন শতভাগ পরিচ্ছন্নতা ও কড়া বায়োসিকিউরিটি। খামারে বহিরাগতদের প্রবেশ সীমিত করা এবং শেডগুলো নিয়মিত জীবাণুমুক্ত রাখার কারণে মুরগির রোগবালাই ও মৃত্যুহার নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। ফলে খামারিদের লাভের মুখ দেখছেন বেশি।
খামারি শাওন সরদার জানান, খোলামেলা ও পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের সুবিধাযুক্ত শেডে উৎপাদিত এই মুরগির মাংসের স্বাদ সাধারণ ব্রয়লারের চেয়ে অনেক ভালো। এই নিরাপদ মাংসের চাহিদা এখন বরিশাল ছাড়িয়ে চট্টগ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে।
আঞ্চলিক প্রাণিরোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক নূরুল আলম এবং জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল জানান, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধ করা জরুরি। কর্ণকাঠির খামারিরা প্রমাণ করেছেন যে, সঠিক তদারকি ও প্রশিক্ষণ থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়াও মানসম্মত ও নিরাপদ ব্রয়লার উৎপাদন করা পুরোপুরি সম্ভব।