
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ও মগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চলছে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমি অফিসের দায়িত্বে মাত্র সহকারী তহশিলদার (ভূমি সহকারী কর্মকর্তা)। ফলে অনেক সময় সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের।
এছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিস বন্ধ করা এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৪ জুন) দুুপুরে সরেজমিনে ভূমি অফিসে গিয়ে যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিস খোলা থাকার কথা থাকলেও দুপুর ৩টার দিকেই প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি ও ডাকাডাকির পর অফিসের ভেতর থাকা একটি রেস্ট রুম থেকে ঘুম থেকে উঠে আসেন এক ব্যক্তি যিনি নিজেকে ওই অফিসের কম্পিউটার অপারেটর বলে দাবি করেন। তবে সে সময় অফিসে কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না।
এ বিষয়ে কাউকে না পেয়ে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আ: মালেকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দুই অফিসের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, একাধারে দপদপিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং মগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বে রয়েছেন। যার মধ্যে সপ্তাহে তিন দিন দপদপিয়া এবং তিনদিন দিন মগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বসেন।
কিন্তু স্থানীয়দের দাবি দুই অফিসের দায়িত্বের অজুহাতে তিনি অধিকাংশ সময়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন যার ফলে দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন।
ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা একাধিক সেবাগ্রহীতার সাথে কথা বলে জানা যায় যে, তারা প্রায় সময়ই এসে কোনো কর্মকর্তাকে পান না এবং জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা দাখিলা নিতে এলে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয় ও টাকা না দিলে ফাইল আটকে রেখে মাসের পর মাস ঘোরানো হয়। তাই ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এই চরম ভোগান্তি ও অনিয়ম থেকে মুক্তি পেতে এবং নলছিটির ভূমি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন।