
নিজস্ব প্রতিবেদক,
বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকার ‘দেশবন্ধু সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতি লিমিটেড’-এর তহবিল আত্মসাৎ, প্রতারণা এবং গ্রাহকদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ও সাবেক ম্যানেজার অসীম চন্দ্র দাসকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৮।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর নতুন বাজার এলাকা থেকে র্যাব-৮ এর একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তাকে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেপ্তার অসীম চন্দ্র দাস এয়ারপোর্ট থানাধীন গণপাড়া এলাকার মাখন চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি ওই সমিতিতে দীর্ঘদিন ম্যানেজার ও ক্যাশিয়ারের দায়িত্বে ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১ জুলাই গণপাড়া এলাকার মো. ইউনুস আলী হাওলাদারসহ স্থানীয় কয়েকজন মিলে সমবায় অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত (নিবন্ধন নম্বর: ২৬১ বিডি) ‘দেশবন্ধু সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতি লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠা করেন। সমিতি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় অসীম চন্দ্র দাসকে।
দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের মে মাস থেকে সমিতির হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু তিনি নানা টালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে সমিতির কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২০ জুন কাশিপুর চৌমাথা বাজারে তার কাছে জমা রাখা টাকা ও সমিতির মালামালের হিসাব চাওয়া হলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি গ্রাহকদের খুন-জখমের হুমকিও দেন তিনি।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীদের করা নালিশি দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৩ এর বিচারক মিরাজুল ইসলাম রাসেল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৬(৩) ধারায় মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার জন্য এয়ারপোর্ট থানাকে নির্দেশ দেন।আদালতের আদেশের পর গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এয়ারপোর্ট থানায় দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬(২) ধারায় একটি নিয়মিত মামলা (নম্বর: ০৯) রুজু করা হয়।
র্যাব কর্তৃক থানায় হস্তান্তরের পর পুলিশ আসামি অসীম চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এয়ারপোর্ট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তার।