
বিশেষ প্রতিনিধি।
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। হাসপাতালটিতে বর্তমানে চিকিৎসাধীন মোট রোগীর প্রায় ৮০ শতাংশই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বলে জানা গেছে। উপজেলা পর্যায়ের প্রধান এই চিকিৎসা কেন্দ্রে ডেঙ্গু রোগীর এমন আধিক্য স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য তীব্র উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে বাবুগঞ্জ ও আশপাশের এলাকাগুলোতে ডেঙ্গুর বিস্তার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। হঠাৎ করেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এডিস মশাবাহিত এই ভাইরাসজনিত রোগের প্রধান উৎস জমে থাকা পরিষ্কার পানি। বসতবাড়ির আশপাশে পড়ে থাকা ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্র, ফুলের টব, টায়ার ও পানির ট্যাংকে জমে থাকা পানিতে খুব সহজেই এডিস মশা বংশবিস্তার করে। জমে থাকা পানির এ মাধ্যমগুলো দ্রুত অপসারণ না করলে প্রজননস্থল ধ্বংস করা সম্ভব নয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও চোখের পেছনে ব্যথা এবং বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে। তবে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, শরীরের যেকোনো স্থান থেকে রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো বিপদচিহ্ন দেখা দিলে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো জরুরি। একইসঙ্গে জ্বর হলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন সচেতন মহল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও বাসাবাড়ির চারপাশ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর ওষুধ ছিটানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন মোট রোগীর সংখ্যা এবং তার মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সঠিক অনুপাত ও প্রকৃত তথ্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করে দ্রুত প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সঠিক তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে জনসাধারণকে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন করা হলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।
জনস্বার্থে সবাইকে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।